গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের কথা ভুলে গিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল চাচ্ছে নির্বাচন। তাদের মাথায় যেন নির্বাচন ছাড়া আর অন্য কোন কথাই নেই। সভা সমাবেশ টক শো এমনকি চায়ের টেবিলের আড্ডায় ও তারা একটি দাবি ই তুলছে নির্বাচন। জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ফল যেন শুধুই একটি নির্বাচন। তাদের এই নির্বাচন নিয়ে বাড়াবাড়ির ফাঁকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আওয়ামী লীগ।
জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যেসব নেতারা খুশির কান্নায় ভেসেছিলেন, তারাই এখন এই অভ্যুত্থানকে যেন মেনে নিতে পারছেন না। ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাবার পথে ঠিক তখনই দেশের পিছন থেকে টেনে ধরছে একটি গোষ্ঠী। কথায় কথায় নির্বাচন আবার কেউ কেউ এই সরকারকে অনির্বাচিত বলেও প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করছেন।
এবার আসা যাক আসল ঘটনায়। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যায় তার সকল নেতাকর্মী। এদের মধ্যে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে আছেন জেল হাজতে। আবার কেউ কেউ পালিয়েছেন দেশের বাহিরে। তবে এর মধ্যেও ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে এখনো দেশে ঘাপটি মেরে আছেন আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা। যারা কিনা এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে। তবে ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েক জায়গায় দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সক্রিয় প্রভাব।
সম্প্রতি, আওয়ামী লীগ ফিরছে বলে অনেক খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারই এক নজির দেখা গেল আদালত প্রাঙ্গণে। আওয়ামী লীগের জেলহাজতে থাকা নেতাদের হুমকিতে পড়েছে প্রশাসনের লোকজন। রোববার গণহত্যার মামলায় প্রিজনভ্যান থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, এবং হাসানুল হক ইনু কে নিয়ে আসার সময় হ্যান্ডকাফ পড়ানো নিয়ে পুলিশ সদস্যদের হুমকি দিতে দেখা যায়। তখন শাহজাহান খান উচ্চ গলায় বলেন ‘তোদেরকে দেখে নেব’।
এসময় শাজাহান খান পুলিশ সদস্য শহিদুলসহ তার সাথে থাকা পুলিশ সদস্যদেরকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে আখ্যায়িত করেন। ওই পুলিশ সদস্য আরো জানান, হাসানুল হক ইনু হুমকির সুরে বলেন ‘তোদের চৌদ্দগুষ্টিকে খেয়ে ফেলবো’। এমত অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে এত সাহস কোথায় পাচ্ছে আওয়ামী লীগের এসব নেতারা। তাহলে কি সত্যিই আওয়ামী লীগ ফিরছে।?
সম্প্রতি আরও বেশ কিছু ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ারসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে তাদের আরো ভয়ংকর রূপে ফেরার কথা জানান দিচ্ছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করতে দেখা গেছে তাদের। সম্প্রতি লন্ডনে একটি হোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের পালিয়ে থাকা নেতাদের একত্রিত হতে দেখা যায়। অন্যদিকে কলকাতায় বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করছেন এমন তথ্য রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কথা ভুলে গিয়ে বারবার নির্বাচনের কথা বলছে, ঠিক এই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে আওয়ামী লীগের পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীরা। জুলাই ও আগস্টে যেভাবে ছাত্র জনতা একত্রিত ছিল এখন স্বাভাবিকভাবেই সেটি কিছুটা লোপ পেয়েছে। যার ফলেই আগামী নির্বাচন কেন্দ্রিক দল ঘোছাতেই আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে সক্রিয় হতে চেষ্টা করছে।
তবে জনগণ বলছে ভিন্ন কথা। কেউ চাচ্ছে সংস্কার আবার কেউ কেউ চাচ্ছে নির্বাচন, এদের মধ্যে সংস্কারের দিকেই জনগণের বেশি ঝোঁক। জনমানুষের মনে এখনো এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে যে আওয়ামী লীগের বিচার ও সংস্কার না হলে আবারো দেশে অরাজকতা তৈরি করতে পারে পালিয়ে থাকা গুপ্ত আওয়ামী লীগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের ব্যাপারে সবাই ঐক্যমত হতে হবে। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে নির্বাচনের জন্য চাপ না দিয়ে, দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের দিকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এগিয়ে এলে আমূল পরিবর্তন আসবে আগামীর বাংলাদেশে।