২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বাড়িভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। এ নির্দেশনার একটিতে বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর তা বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই। দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএনসিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুই বছর পর মানসম্মত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে। নির্দিষ্ট সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগিদ দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সব বকেয়া দিয়ে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন এবং ভাড়াটিয়ার সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাড়িভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়িভাড়ার বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না। বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

ডিএনসিসি জানায়, বাড়িভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন। যে কোনো সমস্যা ওয়ার্ড বা জোন ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।

বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া দেবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতি মাসে ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।

এ সময় তিনি ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা পড়েন। নিচে নির্দেশিকাগুলো দেওয়া হলো-

১. বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।

২. বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসেস (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) এর নিরবিচ্ছিন্ন কানেকশন, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্যকালেকশন সহ অন্যান্য সব সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে অবগত করবেন এবং বাড়িওয়ালা অতিসত্ত্বর সেই সমস্যা সমাধান করবেন।

৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।

৪. সম্প্রতি ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, ইত্যাদি নানা ধরণের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।

৫. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতিমাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ প্রদান করতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া। দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।

৬. বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যে কোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত গ্রহণ করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি/ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন।

৮. যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/ জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।

৯. ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনাসভা করা।

ফজরের নামাজ পড়েই ধান কাটতে নামেন এমপি এনামুল

এসি রুমে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

জামায়াতের এমপিকে মসজিদে হত্যাচেষ্টা, সংসদে চাইলেন নিরাপত্তা

ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : আইজিপি

পাকিস্তানের দুই শহরে অঘোষিত ‘লকডাউন’

শান্তি চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুক তেহরান: ট্রাম্প

পিরোজপুর ফোরামের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

১৭ বছর পর ভাত খেলেন বিএনপি সমর্থক সেই ইনু মিয়া

হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু