সময় যত গড়াচ্ছে বাংলাদেশের সামরিক খাত তত বেশি শক্তিশালি হচ্ছে। কিছু দিন আগে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের খবর যখন তুংগে ঠিক সেই মুহুর্তে ড ইউনুস বলেন বাংলাদেশেরও যুদ্ধ প্রাস্তুতি নিতে হবে। আর এই প্রস্তুতি আধায়াধি নয় পুরোপুরি নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।আর তাইতো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা বাজেট যে মাত্রায় বাড়ছে, তা শুধু একটা অঙ্ক নয়—এটা এক নীরব বিপ্লব। ৫৫ হাজার কোটি টাকার দিকে ধেয়ে যাওয়া এই বাজেট দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে যাচ্ছে।
বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকা কালে, এই প্রতিরক্ষা খাত ছিল অবহেলিত। আগের সরকারের প্রধানরা সামরিক শক্তি না বাড়িয়ে প্রতিবেশির গোলামি করাকেই শ্রেয় মনে করত। কিন্তু দিন বদলেছে, বাংলাদেশের এসেছে নতুন অধ্যায়।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান ফেব্রুয়ারিতে সরাসরি বলেছিলেন, “আমরা সীমিত বাজেটের কারণে আমাদের পূর্ণ ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছি না।” সরকারের উত্তর ছিল তৎক্ষণাৎ—”সময় শেষ, এবার ঘুম ভাঙাতে হবে প্রতিরক্ষা খাত আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
এবারের এই বাজেট শুধু বেতন ভাতা বা আবাসনের জন্য নয়। এবার লক্ষ্য একেবারে ভিন্ন—আকাশে আধিপত্য, সমুদ্রে কৌশলগত দখল এবং স্থল সীমান্তে দ্রুত জবাব। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, রকেট লঞ্চার, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র—সব কিছুই আসছে একের পর এক।
বিমান বাহিনী পাচ্ছে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার সরাসরি বরাদ্দ। চীনের J-10C যুদ্ধবিমান, উন্নত রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত হবে বহরে। বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষার সক্ষমতা বদলে যাচ্ছে—এখন পাল্লা দেবে ভারতের রাফাল বা পাকিস্তানের JF-17 এর সাথেও।
নৌবাহিনী? শুধু দুটি পুরনো সাবমেরিন নয়। এবার ছয়টি আধুনিক সাবমেরিন, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট, হেলিকপ্টার স্কোয়াড ও কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও খুলনায় নির্মাণ হচ্ছে নতুন ডকইয়ার্ড। বঙ্গোপসাগর এখন শুধু বাণিজ্য নয়, এক উত্তপ্ত সামরিক ব্যূহ।
সেনাবাহিনীও বদলে যাচ্ছে কাগজের বাহিনী থেকে প্রযুক্তি-নির্ভর কমব্যাট ফোর্সে। তুরস্ক থেকে আসছে TRG-300 রকেট সিস্টেম, নতুন নোরা হাউইটজার, টাইগার মিসাইল এবং হালকা ট্যাংক। শুধু সংখ্যা নয়, এখন আরও ফোকাস রয়েছে প্রযুক্তি ও কৌশলের দিকে। রকেট ব্যাটালিয়ন, ড্রোন স্কোয়াড, এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট গঠন শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে ।
এই বাজেটের আরেকটি গোপন অধ্যায়—প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উৎপাদন। টাঙ্গাইল ও নরসিংদীতে তৈরি হচ্ছে ড্রোন ও ক্ষুদ্র অস্ত্র কারখানা। তুরস্কের Bayraktar ও Roketsan বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিচ্ছে, ভবিষ্যতে রপ্তানির পরিকল্পনাও এখন পাকা।
এই ঘুরে দাঁড়ানো দেখে শুধু দেশের ভিতর নয়, ভারতের মধ্যেও নড়েচড়ে বসেছে প্রতিরক্ষা মহল। নতুন স্কোয়াড্রন, উত্তর-পূর্বে ড্রোন সেন্টার, সীমান্তে টহল বাড়ানো—সবই বাংলাদেশের উন্নয়ন নজরে রেখে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা পর্যন্ত বলছেন, “বাংলাদেশ এখন আর নির্ভরশীল দেশ নয়, এটি এক স্ট্র্যাটেজিক স্বাধীন রাষ্ট্র।” আর তাই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেট একটি ই ঘোষণা দিতে যাচ্ছে সরকার “আমরা প্রস্তুত। এবার আর কাউকে ভরসা নয়, বাংলাদেশ নিজের শক্তিতে দাঁড়াবে।