দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতিজ্ঞা ভেঙে অবশেষে ভাত খেলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের আলোচিত বিএনপি সমর্থক ৭৯ বছর বয়সী ইনু মিয়া।
বাংলা নববর্ষের দিন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম কুলিয়ারচরে পশ্চিম জগৎচর এলাকার ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে তার প্রতিজ্ঞা ভাঙান।
ইনু মিয়া পেশায় একজন কৃষিশ্রমিক ছিলেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে চোট পাওয়ায় বর্তমানে লাঠিতে ভর করে চলাফেরা করেন।
বিএনপি সমর্থক ইনু মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের মৃত সুলায়মান মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন ইনু মিয়া। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিম জগৎচার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট দিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। তখন তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন না বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, ততদিন তিনি ভাত খাবেন না। সেই থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর শুধু কলা, রুটি, বিস্কুট ও শুকনা খাবার খেয়েই জীবন অতিবাহিত করেছেন তিনি। এমনকী কোনো সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেলেও ভাতের ধারেকাছেও যেতেন না।
দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তবে ইনু মিয়ার জেদ ছিল, এলাকার স্থানীয় নেতা ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম নিজে এসে তাকে ভাত খাওয়ালে তবেই তিনি ভাত খাবেন। সেই ইচ্ছা পূরণে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ইনু মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী।
ইনু মিয়াকে পরম মমতায় পাশে বসিয়ে নিজের হাতে ভাত খাইয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত আবেগ আর প্রতিজ্ঞা পূরণের আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ ইনু মিয়া।
এর আগে ইনু মিয়া জানিয়েছিলেন, তার একমাত্র আশা ছিল বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং নিজের এই ত্যাগের কথা তাকে জানানো।
ইনু মিয়ার স্ত্রী জোছনা খাতুন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও তাকে এক মুঠো ভাত খাওয়াতে পারেনি। তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই প্রতিজ্ঞা পূরণ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেন, ‘ইনু ভাই প্রমাণ করেছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ কীভাবে করতে হয়। এজন্য আমরা এবং আমার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে লাল সালাম।’