১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মধ্য-শরৎ উৎসব উদযাপনে দেশ-বিদেশে নানা আয়োজন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

সোমবার গোটা চীনে ঘটা করে উদযাপন হয়েছে মধ্য-শরৎ উৎসব। এদিন, চাঁদের আলোয় জেগে ওঠে শহর আর গ্রাম। ঐতিহ্য, শিল্প আর আনন্দে ভরে উঠে পুরো চীন। দেশটির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে মানুষ পরিবার নিয়ে একত্রিত হয় এবং ঐতিহ্যবাহী নানা কার্যক্রমে অংশ নেয়। চীন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব উদযাপিত হয়।

বর্ণিল আয়োজনে চীন জুড়ে উদযাপিত হয়েছে মধ্য শরৎ উৎসব বা চোং ছিউ চিয়ে। দেশব্যাপী শৈল্পিক পরিবেশনা, স্থানীয় খাবার তৈরি এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন ইভেন্টসহ লোকসাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করায় প্রাণবন্ত উদযাপনে মুখরিত হয়ে উঠে চীন। চীনা চান্দ্র ক্যালেন্ডারে অষ্টম মাসের ১৫তম দিনে উদযাপিত উৎসবটি পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য একটি বিশেষ উপলক্ষ। এটিকে ফসলের প্রাচুর্যের প্রতীকও বলা হয়।

এই বছর জাতীয় দিবসের ছুটিতে এই উৎসব পড়ে যাওয়ায় আনন্দের মাত্রা ছিলো দ্বিগুণ।

পূর্ব চীনের চ্যচিয়াং প্রদেশের হাংচৌ শহরের চিংশান গ্রামে উৎসবের আয়োজন ছিল একেবারেই ঐতিহ্যবহুল।

গ্রামের মানুষ সাজলেন “চা পরী” সেজে, উপস্থাপন করলেন প্রাচীন চা পরিবেশনের শিল্প ‘তিয়ান ছা’-যা জনপ্রিয় ছিল এক হাজার বছর আগে, সং রাজবংশের সময়।

সেখানে স্থানীয় ভেজিটেরিয়ান মুনকেকও দর্শকদের কাছে ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

দক্ষিণ-পশ্চিমের সিছুয়ান প্রদেশের লুশান কাউন্টিতে পালিত হলো ১হাজার ৮০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহ্য।

ড্রাম বাজানো, শোভাযাত্রা আর নাচগানের মধ্য দিয়ে মানুষ একসাথে উপভোগ করলো ইতিহাসের উষ্ণতা আর সময়ের পরিবর্তন।

দক্ষিণের কুয়াংতোং প্রদেশের চোংশান শহরে ছিল রঙিন ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা।

এদিকে, পূর্ব চীনের সুচৌ শহরে আড়াই হাজার বছরের পুরানো জলপথের পাশে মানুষ উপভোগ করে স্থানীয় সংগীত ফিংথান আর ঐতিহ্যবাহী সুচৌ স্টাইলের মুনকেক।

রাজধানী বেইজিং-এর ইউইউয়ানথান পার্কে ছিল লণ্ঠন তৈরি, ধাঁধা খেলা আর গন্ধরাজ ফুলের প্রদর্শনী।

ছেংতু শহরের শু ব্রোকেড ও এমব্রয়ডারি মিউজিয়ামে, শিল্পীরা হাতে তৈরি করলেন এমব্রয়ডারি, যা উৎসবের উপহার হিসেবে জনপ্রিয়।

আর কানসু প্রদেশের লানচৌ শহরে প্রদর্শিত হলো সিল্ক রোডের ইতিহাসভিত্তিক নাটক, যা দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেল প্রাচীন বাণিজ্য যুগে।

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে পুরনো ফায়ার ড্রাগন ড্যান্স আলো ছড়িয়েছে পুরো শহরে।

এ বছর শতাধিক তরুণ শিল্পী তৈরি করেছে দশ হাজার এলইডি বাতি দিয়ে সাজানো এক ক্ষুদ্র ফায়ার ড্রাগন, যা প্রতীক হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারের।

এছাড়া ম্যাকাওতেও ছিলো বর্ণাঢ্য আয়োজন।

উৎসবের আনন্দ পৌঁছে গেছে মহাকাশেও। চীনের থিয়ানকং স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীর মানুষদের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান নভোচারীরা।

এছাড়া বিশ্বের নানা প্রান্তে রঙিন আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে মধ্য-শরৎ উৎসব। এতে প্রবাসী চীনা নাগরিক ও স্থানীয় জনগণ একসঙ্গে অংশ নিয়ে চীনা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য ভাগাভাগি করেন।

চিত্রাঙ্কন, ক্যালিগ্রাফি, চীনা ঐতিহ্যবাহী পোশাক হানফু পরিধান এবং মুনকেক তৈরির মতো নানা হাতে-কলমে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত

হাদি হত্যার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত লিখবেন ওমর হাদি

ভাইরাল ‘তাজু ভাই’ মনের কষ্ট ভুলতে যুক্ত হন ভিডিওতে

ইয়ুননানের ছাদজুড়ে চা পাতা

যুদ্ধে ইরানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ক্ষতিতে চীনের দুঃখ প্রকাশ

দেশের ৩ জেলায় ঝড়ের আভাস

এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

ইরান পুনর্গঠনে অন্তত ১৫-২০ বছর লাগবে: ট্রাম্প

মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে