১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংবিধানের তফশিলে থাকবে জুলাই সনদ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ছাড়াই ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সনদের কপি পাঠানো হয়েছে। সমন্বিত খসড়ার সঙ্গে চূড়ান্ত সনদে বেশ কয়েকটি পার্থক্য রয়েছে।

সনদের অঙ্গীকারে বলা হয়েছে, সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফশিল হিসাবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত থাকবে। খসড়ায় বলা হয়েছিল সনদের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কিন্তু চূড়ান্ত সনদে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী দলগুলো কোনো প্রশ্ন তুলবে না। গণ-অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বাস্তবায়নের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুতই অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া আগে যেসব দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, তাদের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সনদে দলের নাম উল্লেখ না করে শুধু সংখ্যা বলা হয়েছে। খসড়ায় ছিল-এর কোনো বিধান শুধু সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। কিন্তু চূড়ান্ত সনদে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

ঐকমত্য কমিশন বলছে, কোনো প্রশ্ন না করেই রাজনৈতিক দলগুলোকে সনদে স্বাক্ষর করতে হবে। আর আইনি ভিত্তি নিয়ে রোববার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর আলাদাভাবে সুপারিশ করবে তারা। সনদের পটভূমিতে ১৯৪৭ সাল থেকে সব আন্দোলনের স্বীকৃতি এবং ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আছে।

সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর আর হাত দেওয়ার সুযোগ নেই। যে যিনি স্বাক্ষর করবেন, আগামীকাল শনিবারের মধ্যে প্রত্যেক দলের দুজন প্রতিনিধির নাম পাঠাতে হবে।

অঙ্গীকারনামা : সনদের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে অঙ্গীকার করছি-

(১) জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।

(২) জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক। তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে। তাই রাজনৈতিক দল ও জোট সম্মিলিতভাবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদ গ্রহণ করেছি। ফলে এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফশিল হিসাবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।

(৩) জুলাই সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না। উপরন্তু সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।

(৪) আমরা ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি-গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।

(৫) গণ-অভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।

(৬) সনদে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান। বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।

(৭) এই মর্মে একমত, জুলাই সনদ ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো দ্রুত সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

যেসব বিষয়ে একমত: রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে ২৮টি সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিভিন্ন দল। এর মধ্যে মৌলিক সংস্কার ১৯টি। তবে কারা নোট ডিসেন্ট দিয়েছে, তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ঐকমত্যে পৌঁছানো বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-রাষ্ট্রভাষা, নাগরিকত্ব ও সংবিধান। এছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং মৌলিক অধিকারের বিষয়ে যেসব প্রস্তাবে সম্মিলিতভাবে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো হলো-

১. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। ২. নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা-সম্পর্কিত বিধান, ৪. বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ (ক) সুপ্রিমকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ, (খ) উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের সম্প্রসারণ। ৫. জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ৬. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, ৭. সংবিধান সংশোধন, ৮. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল, ৯. নির্বাচন কমিশন গঠন, ১০. পুলিশ কমিশন গঠন, ১১. নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ-সম্পর্কিত। এছাড়া বাকি ৯টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টসহ (ভিন্নমত) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-১. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন, ২. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান, ৩. সরকারি কর্মকমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান সম্পর্কিত ৪. সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব (সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বাচন পদ্ধতি ইত্যাদি); ৫. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (উচ্চকক্ষের গঠন, সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি, এখতিয়ার ইত্যাদি), ৬. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, ৭. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ৮. রাষ্ট্রের মূলনীতি, ৯. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব [অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)]।

জরুরি অবস্থা ঘোষণা : ১) জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে ১৪১ক অনুচ্ছেদ সংশোধনের সময় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগের’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। (২) যুক্ত হবে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান। জরুরি অবস্থা ঘোষণা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা অথবা তার অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতার উপস্থিতি অন্তর্ভুক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী : একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর থাকতে পারবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান, যেমন একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না-এমন বিধান সংবিধানে যুক্ত করা হবে। এই বিধানে নোট অব ডিসেন্ট আছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা : একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকবে। নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) ১০০ (একশ) সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ (একশ) জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। দলগুলো নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। তালিকায় কমপক্ষে ১০% নারী প্রার্থী থাকতে হবে। এক্ষেত্রে নোট ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।

নির্বাচন ব্যবস্থা : প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক নির্বাচন কমিশনারদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে। আইনের দ্বারা নিম্নরূপে গঠিত একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে। (১) জাতীয় সংসদের স্পিকার (যিনি এই বাছাই কমিটির প্রধান হবেন), (২) ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন), (৩) প্রধানমন্ত্রী, (৪) বিরোধী দলের নেতা এবং (৫) প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসাবে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।

পটভূমি : সনদের পটভূমিতে বলা হয়. প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এরপর পূর্ব বাংলা তার অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু দেশটির শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরশাসন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বায়ত্তশাসন এবং ১৯৬৯-র গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বাধিকারের প্রতিফলন ঘটে। এরপর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বর্ণিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতিকে ধারণ করে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, ৫৩ বছরেও তা পুরোপুরি অর্জন হয়নি।

কারণ শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে। ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধন করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একদলীয় বাকশাল গঠন করা হয়। একই বছরে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ২০০৬ সালে কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। গঠিত হয় একটি অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক। নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে ক্রমান্বয়ে অবশিষ্ট গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে থাকে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা, হামলার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও বিভীষিকাময় হ্রাস ও ভীতির রাজত্ব কায়েম করে। ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হয় এক নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার ও গোষ্ঠী বন্দনার জন্য নিবেদিত রাখা হয়।

দেড় দশকে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের বিকৃতি সাধন, বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পরপর তিনটি বিতর্কিত ও প্রহসনমূলক নির্বাচন করে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ব্যবস্থা কায়েম করে।

আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত

হাদি হত্যার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত লিখবেন ওমর হাদি

ভাইরাল ‘তাজু ভাই’ মনের কষ্ট ভুলতে যুক্ত হন ভিডিওতে

ইয়ুননানের ছাদজুড়ে চা পাতা

যুদ্ধে ইরানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ক্ষতিতে চীনের দুঃখ প্রকাশ

দেশের ৩ জেলায় ঝড়ের আভাস

এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

ইরান পুনর্গঠনে অন্তত ১৫-২০ বছর লাগবে: ট্রাম্প

মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে