১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছাড়তে চাননি গ্রাম, কিন্তু বৃদ্ধা নাজওয়াকে বাঁচতে দিল না দখলদাররা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

বাড়ির ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে এক জোড়া কালো জুতা বের করলেন নূর ঘাচাম। আলতো করে চুমু খেলেন তাতে। জুতাজোড়া তার মা নাজওয়া ঘাচামের। ইসরাইলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে তাকে।

নাজওয়া ঘাচাম খুবই স্বাধীনচেতা একজন মানুষ ছিলেন তিনি। ইসরাইলের বোমাবর্ষণ ও ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেও নাজওয়া দেশটির দক্ষিণের গ্রাম ইয়ারুনে নিজের বাড়ি ছেড়ে যাননি। আর তার এই জেদই কাল হলো তার জীবনে।

মিডল ইস্ট আই-কে নূর ঘাচাম বলেন, ‘মা তার বাড়িটা খুব পছন্দ করতেন। এটা পরিষ্কার যে তিনি নিজের বাড়িকে খুব গুরুত্ব দিতেন। ’

নাজওয়ার বাড়ির সামনের বাড়িতেই থাকেন শহরের মেয়র ও তার স্ত্রী লায়লা তাহফা (৫৩)। তাহফা বলেন, তার মনে আছে, নাজওয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজ বাড়ির সিঁড়িগুলো ও আশপাশের স্থান পরিস্কার কিংবা বাগান পরিচর্যার কাজ করতেন।

তাহফা মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘নাজওয়ার কাছে তার বাড়িটা ছিল একটা রাজ্যের মতো, বাইরের কিছুই যেন এর কাছে কিছু নয়।’

নাজওয়ার সঙ্গে নিজের কিছু সুখস্মৃতির কথা স্মরণ করেন তাহফা। তাকে অনেক বছর ধরে চিনতেন তিনি। বলেন, ‘৭০–এর কাছাকাছি বয়সে এসেও তিনি (নাজওয়া) ছিলেন প্রাণবন্ত, সব সময় গল্প করতে পছন্দ করতেন।’

তাহফা বলছিলেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ বাধলে তার নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু তিনি সব সময় বলতেন, “আমি বোমার ভয় পাই না, শুধু আমার বাড়িতে থাকতে চাই।”

একদিন ২৮ বছর বয়সি এক চিকিৎসক মোহাম্মদ সালমান ও তার উদ্ধারকর্মী দল নাজওয়াকে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়ে রাজি করাতে সক্ষম হয়। কিন্তু অল্প দিন পরই আবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

মোহাম্মদ সালমান মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘স্রষ্টার নামে শপথ করে বলছি, নাজওয়া হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তাকে গুলি করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ’

গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে তখনো ইসরাইলি সেনারা ইয়ারুন ছেড়ে যাননি। সালমান বলেন, নাজওয়ার ওপর ইসরাইলি সেনারা একদিন গুলি চালায়। তিনি ও তার দল বারবারই নাজওয়ার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ৩০ দিন ওই এলাকা অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ঢুকতে দেয়নি ইসরাইলি সেনারা।

সালমান বলেন, অবশেষে এক মাস পর ২৭ ডিসেম্বর তারা নাজওয়ার বাড়িতে পৌঁছাতে সক্ষম হন। দেখেন, নাজওয়া মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।

তিনি বলেন, ‘তাকে তিনবার গুলি করা হয়েছে। তার শরীরের আঘাতের চিহ্নও ছিল। এতে মনে হয়, তাকে মারধর বা পদদলিত করা হয়েছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তার (নাজওয়া) মরদেহ দেখেছি, তিনি বৃদ্ধ নারী ছিলেন। তাকে গুলি করার কোনো দরকার ছিল না। ’

নাজওয়ার মরদেহ উদ্ধার করে তা গ্রামের কাছাকাছি তেবনাইন গভর্নমেন্ট হাসপাতালে পৌঁছে দেন চিকিৎসক সালমান।

হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদের দেওয়া একটি প্রতিবেদন মিডল ইস্ট আইয়ের হাতে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাদের আগ্রাসনে নিহত নাজওয়ার মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসে লেবাননের রেডক্রস। মাথা, তলপেট ও বুকে আঘাতের কারণে তিনি মারা গেছেন। তার বাঁ ঊরু ভাঙা ছিল।’

নাজওয়াকে হত্যার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চায় মিডল ইস্ট আই। তবে তারা তাতে সাড়া দেয়নি।

আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত

হাদি হত্যার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত লিখবেন ওমর হাদি

ভাইরাল ‘তাজু ভাই’ মনের কষ্ট ভুলতে যুক্ত হন ভিডিওতে

ইয়ুননানের ছাদজুড়ে চা পাতা

যুদ্ধে ইরানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ক্ষতিতে চীনের দুঃখ প্রকাশ

দেশের ৩ জেলায় ঝড়ের আভাস

এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

ইরান পুনর্গঠনে অন্তত ১৫-২০ বছর লাগবে: ট্রাম্প

মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে