১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাকিবকে বলেছিলাম, যা করো না করো, আওয়ামী লীগ করবা না—মেজর হাফিজ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিতে নিষেধ করেছিলেন। সাকিব পরামর্শটি গ্রহণ করেননি বলে এখন বিপদে পড়েছেন। আজ ঢাকায় বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করা তামিম ইকবাল। হাফিজ উদ্দিন তামিমকেও রাজনীতির বিষয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশ ফিরতে পারছেন না।

নির্বাচনের আগে সাকিব তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘সাকিব আল হাসান আমার বাসায় এসেছিল একদিন। আমার পরিচিত সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা তাকে নিয়ে এসেছিল। আমার সঙ্গে পরিচয় ছিল না। এমনিই খেলা দেখেছি টেলিভিশনে। বলল আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়। অ্যাডভাইস নিতে চায়। বললাম, আমি তো বিরোধী দল করি। সে তো বিরোধী দলে যোগ দেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই আসবে না। পরে এলো। তাকে অনেক কথাবার্তা বললাম। তাকে একটা উপদেশ দিয়েছি, যেটি সে গ্রহণ না করে বিপদে পড়েছে। তাকে আমি বলেছি ‘‘যা করো না করো, আওয়ামী লীগ কোনো দিন করবা না।’’ সে এটা শুনে একটু বিমর্ষ হলো। তার ধারণা আওয়ামী লীগে গেলে মন্ত্রী হবে, এটা-ওটা হবে। এমপি তো হবেই।’

আশির দশকে রাজনীতিতে নামার আগে হাফিজ উদ্দিন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের কথা সাকিবকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন জানিয়ে হাফিজ বলেন, ‘তাকে বললাম, দেখো আমিও তোমার মতো খেলোয়াড় ছিলাম। আমারও পরিচিতি ছিল। একসময় পাকিস্তান জাতীয় দলে আমি একাই বাঙালি ছিলাম। অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু খেলোয়াড় অবস্থায়, জাতীয় দলে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে যোগদান করা আমার ঠিক মনঃপূত হচ্ছে না।’
রাজনীতিতে যোগ না দিলে সাকিব এখন বেশ ভালো থাকতেন বলে মনে করেন হাফিজ, ‘(বলেছিলাম) তুমি এখন রাজনীতিতে যেয়ো না। আর গেলে এই দলটির (আওয়ামী লীগ) বেশি দিন আর আয়ু নাই। সে চুপচাপ থেকে পরে চলে গেল। যদি সে আমার কথা শুনত, এভাবে রাজনীতিতে না যেত, নির্বাচনে না যেত, আজ অনেক সম্মানের সঙ্গে ঢাকার রাজপথে বিচরণ করতে পারত। এখন তো তার বাড়ি আসাই মুশকিল হবে।’

ক্রীড়াঙ্গন একটি অন্য ধরনের অঙ্গন। রাজনীতি থেকে অনেক দূরের অঙ্গন। ক্রীড়াঙ্গনে যাঁরা রথী–মহারথী, যাঁরা সময় দেন, তাঁদের হৃদয় অন্য রকম, ব্যঞ্জনা অন্য রকম। মনমানসিকতা অন্য রকম। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের মনমানসিকতার অনেক তফাত রয়েছে। আমি কখনোই চিন্তা করি নাই রাজনীতি করব।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
স্পোর্টস কুইজ: ৯৯ টেস্টে ক্যারিয়ার শেষ হওয়া একমাত্র ক্রিকেটার কে
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক প্রভাবের প্রসঙ্গে হাফিজ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা তেমন কিছু করেন নাই আজ অব্দি। অনেক কিছুই করানোর রয়েছে। এর একটা প্রধান কারণ হলো এ দেশের একটি পুরোনো রাজনীতিক দল আওয়ামী লীগ, তারা এ দেশের খেলাধুলার অতীতের সব ট্র্যাডিশনকে পাল্টে দিয়েছে। ক্রীড়াসুলভ মনোবৃত্তি এদের মধ্যে একেবারেই দেখা যায় না। এরা অনেক ক্রীড়াবিদকেও বিপদে ফেলেছে।’

রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনের পার্থক্য তুলে ধরে হাফিজ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গন একটি অন্য ধরনের অঙ্গন। রাজনীতি থেকে অনেক দূরের অঙ্গন। ক্রীড়াঙ্গনে যাঁরা রথী–মহারথী, যাঁরা সময় দেন, তাঁদের হৃদয় অন্য রকম, ব্যঞ্জনা অন্য রকম। মনমানসিকতা অন্য রকম। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের মনমানসিকতার অনেক তফাত রয়েছে। আমি কখনোই চিন্তা করি নাই রাজনীতি করব।’

আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত

হাদি হত্যার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত লিখবেন ওমর হাদি

ভাইরাল ‘তাজু ভাই’ মনের কষ্ট ভুলতে যুক্ত হন ভিডিওতে

ইয়ুননানের ছাদজুড়ে চা পাতা

যুদ্ধে ইরানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ক্ষতিতে চীনের দুঃখ প্রকাশ

দেশের ৩ জেলায় ঝড়ের আভাস

এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

ইরান পুনর্গঠনে অন্তত ১৫-২০ বছর লাগবে: ট্রাম্প

মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে