৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুস্তাফিজ বিতর্কে উত্তাল ভারতীয় রাজনীতি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তার মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা।

ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে ৯ দশমিক ২০ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআর। তখন বিষয়টি ছিল পুরোপুরি ক্রিকেটকেন্দ্রিক। মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। 

কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে দাবি তোলেন বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকে এই সময় আইপিএলে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। সেই চাপের মধ্যেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মুস্তাফিজকে দল থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একজন ক্রিকেটারকে না একটি দেশকে না তার ধর্মকে। তার মতে খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। থারুর আরও বলেন মুস্তাফিজ কোনও ঘৃণা ছড়াননি তিনি কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার দায় একজন খেলোয়াড়ের ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য।’

থারুর আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মুস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের কোনও হিন্দু ক্রিকেটার থাকতেন তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে উঠে এসেছে।’

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভারত সরকারের উচিত কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি তুলে ধরা এবং ঢাকা সরকারের উপর চাপ বজায় রাখা। কিন্তু সেই চাপ দেওয়ার পথ কখনওই খেলাধুলা হতে পারে না।’

এই বিতর্কের মাঝেই বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকে দেশদ্রোহী বলেও আক্রমণ করেন। শিবসেনা এবং বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেন বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে সে দেশের ক্রিকেটারকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া অনুচিত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই ঘটনা শুধু একটি ক্রিকেট দলের সিদ্ধান্ত নয় বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং খেলাধুলার সার্বজনীন চরিত্র নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শশী থারুরের বক্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। ভারতের মতো বড় দেশের উচিত উদার দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং খেলাধুলাকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে রাখা এই মতই উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

৩৫ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস, হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

‘এবারের নির্বাচনটা হবে লাইনচ্যুত ট্রেনকে ফের লাইনে তোলা’

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যা জানাল হোয়াইট হাউস

আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় আরও ৩ সাবেক সেনা কর্মকর্তা

১৯ বছর পর বগুড়া সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক: সিইসি

মাদুরো কেন ট্রাম্পের আক্রোশের শিকার হলেন?

বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ হচ্ছে? যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা