একটি বিশ্বাসযোগ্য ভালো বন্ধু, প্রতিবেশী এবং অংশীদার হিসেবে সবসময় বাংলাদেশের পাশে চীন থাকতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন তিনি।
আসিয়ান দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে মিলিত হন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং বলেন, চীন সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ মূলনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করে চলেছে এবং সব বাংলাদেশি জনগণের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করছে।
চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা সম্পর্কে ওয়াং ই বলেন, এটি উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক। চীন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে, যা অযৌক্তিক ও অনৈতিক।
ওয়াং আরও বলেন, চীন আঞ্চলিকভাবে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশসহ অন্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যেতে এবং এশিয়ার উন্নয়ন ও পুনরুত্থানে ভূমিকা রাখতে চায়।
তিনি জানান, সম্প্রতি চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক কুনমিংয়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীন আশা করছে, এই তিন দেশের সহযোগিতা আরও বাস্তবভিত্তিক ফল বয়ে আনবে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থ সহায়তা দিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। বাংলাদেশ ‘ওয়ান চায়না পলিসি’-তে অটল রয়েছে এবং চীনের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার পাশাপাশি বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এই বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।