তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনি পরিবেশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। ওই ক্ষমতা নিয়েই নির্বাচনি মাঠে দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনী। আর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বন্ধে সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠন করা হবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকের পর ব্রিফিং করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ডিসেম্বরের প্রথমদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও তফসিল ঘোষণার পর করণীয় নিয়ে আলোচনা করল কমিশন। আগামী রোববার ৩০ নভেম্বর সচিবদের সঙ্গে বৈঠক হবে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসি কারও কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
পুলিশের বিষয়ে সভায় বলা হয়, ৫ আগস্টের পর থেকে কেউ পুলিশকে মানতে চায় না। বর্তমান পুলিশ যে ৫ আগস্টের আগের পুলিশ না, সেটি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। বৈঠকে আরও জানানো হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। নির্বাচনের সময় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সামর্থ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে।
বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইসির স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে-একটা সুষ্ঠু, সুন্দর, সার্বিক উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন বাস্তবায়নে সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব নিজের আওতায় পালন করতে হবে। ব্যত্যয় হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যানে হচ্ছে তিনটা কম্পোনেন্ট। স্ট্যাটিক, মোবাইল কম্পোনেন্ট ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের গাইডলাইন দিয়েছি। এখন রেসপেক্টিভ বাহিনী থেকে এটা করবে। আর এর সঙ্গে প্রচলিত অর্থে যেটা স্ট্রাইকিং ফোর্স বলি সেটাও এই তিনটা ভাগে ভাগ করা হয়েছে।’
ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবস্থানটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, তফসিল ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই আচরণবিধি প্রতিপালন যেন যথাযথভাবে হয় এবং সে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেন সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন। তারা সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, প্রথম দিন থেকেই মাঠে থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।’
নির্বাচনে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে কন্টিনিউ করবে। তাদের ম্যাজিস্ট্রিয়াল পাওয়ার দেওয়া আছে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, সেটা বহল থাকবে।’
আরপিওতে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে তা আরপিও’র সঙ্গে কোনো সাঘর্ষিকতা তৈরি করবে না।’
সচিব বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে লিড মিনিস্ট্রি হিসাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কীভাবে কী কাজ করবেন, না করবেন সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় অন্যান্যবারের মতো দিকনির্দেশনা দেবে। ওভার অল মনিটরিং এবং কো-অর্ডিনেশনটা ইসি থেকে দেখা হবে। এখানে একটা আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেল করব। মনিটরিং সেলগুলোর সঙ্গে আবার রেসপেক্টিভ বাহিনীগুলোর সংশ্লিষ্টতা কো-অর্ডিনেশন থাকবে।’
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে আলোচনা হয়। এজন্য একটি সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠন করা হবে ইসিতে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোকে মনিটর করা হবে, যাতে অপতথ্য থেকে মুক্ত থাকতে পারি। এক্ষেত্রে ইউএনডিপি’র প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করব। ইসির নিজস্ব সক্ষমতা যেটা আছে, এর সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি এবং অন্যান্য যে এজেন্সি ফ্যাক্ট চেকের সক্ষমতা আছে সেগুলো কো-অর্ডিনেট করব।’
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। সন্ত্রাসী যারা আছে তাদের বিষয়ে আরও নজরদারি রাখতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।’
আখতার আহমেদ বলেন, ‘সারা দেশে একই দিনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ভোট হবে। কাজেই মুভমেন্ট বাড়বে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে যানবাহনের স্বল্পতার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।’