বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফা মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গেলে বিএনপি কর্মীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করে। জাতীয় সংসদে এমন অভিযোগ করে নিরাপত্তা দাবি করেন নেত্রকোনা-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলার আতকাপাড়া এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এমপি মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এই সংসদ সদস্য বলেন, কাজ শেষ করে ফেরার সময় আমি একটি ফিলিং স্টেশনে দেখতে পাই প্রচুর গাড়ির ভিড়। তখন আমি স্বাভাবিকভাবে সেখানে দাঁড়ালাম। ফিলিং স্টেশনে আমার গাড়ি রেখে আমি অনেক মানুষের খোঁজখবর নিলাম। ইতোমধ্যেই মাগরিবের আজান হয়ে যায়। আমি ফিলিং স্টেশনের নামাজের জায়গায় যাই। সেই সময় কিছু লোক নিজেদের বিএনপি পরিচয় দেয়, তারা সন্ত্রাসী, আমার গাড়ির ওপর হামলা চালায়। আমার লোকজন শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করে তারা। শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তারা।
মাছুম মোস্তফা আরও বলেন, আমি যে মসজিদে ছিলাম সেই মসজিদে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেন। সেই মসজিদের দরজা ভাঙার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তারা দরজার ওপর আঘাত করে এবং গালিগালাজ করে আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয়। তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করে।
এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি শুনতে পাই, সেখানে পেশাদার কিলার দেওয়া হয়েছিল, যাতে আমাকে হত্যা করা হয়। মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারেনি বলে আজকে স্পিকার আপনার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। নাহলে হয়তো আজকে আমার জন্য এখানে শোক প্রস্তাব আনতে হতো।
মাছুম মোস্তফা বলেন, আপনার কাছে আমি আমার নিরাপত্তা চাই। আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি আমার এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই। আমাকে জনগণ জিজ্ঞেস করেছে, কী অপরাধে আমার ওপর হামলা করা হলো? আমি অপরাধটা বলতে পারিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জবাবে বলেন, তিনি পত্রিকায় দেখেছেন এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাছুম মোস্তফা জবাবে বলেন, পুলিশ যাদেরকে গ্রেফতার করেছে তাদের মধ্যে একজন শুধু তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা নিরপরাধ। আজকে নয়জন জামিনে চলে এসেছে। আর যারা আসামি ছিলেন তারা সবাই মিছিল করছেন। তিনি আসামিদের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানান।
পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে ব্যাপারটা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সংসদ নেতা (তারেক রহমান) পাশেই বসে আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, তিনি নিশ্চিত করবেন যেন এটা সুষ্ঠু তদন্ত হয়। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে।